-->

ধর্ম নির্ণয়ে বেদই একমাত্র প্রমাণ; পুরাণ এবং স্মৃতি সহায়ক মাত্র

বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বী কিছু ব্যক্তি প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদকে পাশ কাটিয়ে শুধু পৌরাণিক গ্রন্থ অথবা বিভিন্ন বাবাগুরুদের লেখা ছড়ার বই, গ...

শাস্ত্রজ্ঞ শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তী ছিলেন, দেশের সংস্কার আন্দোলনের এক ধ্রুবনক্ষত্র ।


১৯৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে আবার নতুন করে স্বাধীনদেশে স্বাধীনভাবে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। বর্বর পাকিস্তানীদের অত্যাচারের দগদগে ক্ষত সত্ত্বেও পূর্ববর্তী দুর্বিষহ স্মৃতি ভুলে যাওয়ার সাধ্যমত চেষ্টা করে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়। নতুন স্বাধীন দেশে, নতুন করে আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তারা। কিন্তু তাদের ভাগ্যের বিধিলিপিতে আছে বিধি বাম! ১৯৭২ সালে অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজা চলাকালীন সময়ে অষ্টমী তিথিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ সহ সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উপরে এবং দুর্গাপূজার মন্দিরে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ চালানো হয়। আকস্মিক সেই সাম্প্রদায়িক আক্রমণে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপ্রতিমা বিধ্বস্ত হয়। ধনী-গরিব, রাজনৈতিক ক্ষমতাবান ব্যক্তি থেকে সাধারণ মানুষ সকল শ্রেণীর মানুষের পূজা মণ্ডপ আক্রান্ত হয়। ময়মনসিংহের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন ধরের বাড়ির পূজামণ্ডপও আক্রান্ত হয় এবং ক্ষত-বিক্ষত হয়।হিন্দু সহ সংখ্যালঘুদের বিশ্বাস এবং মনবলে আসে এক প্রচণ্ড ধাক্কা। সেময় থেকেই বাংলাদেশের হিন্দুদের জীবনে সাম্প্রদায়িক মেঘের ঘনঘটা শুরু হয়, সেই মেঘ চুরান্ত অন্ধকারে রূপান্তরিত হয় ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার জঘন্য নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরে। স্বাধীন দেশে পাকিস্তানী পেতাত্মাদের দ্বারা সংঘটিত পৃথিবীর অন্যতম বর্বর এ হত্যাকাণ্ডের পরে অস্তিত্বের সংকটে দিশেহারা হয়ে যায় অসহায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা। স্বপ্নগুলো ফিকে এবং বিবর্ণ হয়ে যায়।
শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তী

১৯৭২ সালের অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক আক্রমণের প্রেক্ষাপটে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় একটি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। সে লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ৪-৬ এপ্রিল শুক্রবার থেকে রবিবার তিনদিনব্যাপী ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় সর্বশ্রেণী পেশার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এক 'সনাতন ধর্ম সম্মেলন।' সনাতন ধর্ম সমাজ এবং কৃষ্টিকে সংরক্ষণ সংস্কার ও সংহতি রক্ষা করার উদ্দেশ্যে দেশের সকল শ্রেণীর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়, বাংলাদেশ 'সনাতন ধর্ম মহামণ্ডল।' সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন, ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রসিদ্ধ আইনজীবী শ্রীবিনয়কৃষ্ণ রায়।
সত্তুরের দশকের সেই ঘোর অমানিশার অন্ধকারকে বিদূরিত করতে যে কয়জন অগ্রপথিকেরা পরবর্তীতে এদেশে এগিয়ে আসেন, তাদের সবার অগ্রগামী হলেন শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তী। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের ২১ শে সেপ্টেম্বর, ৪ আশ্বিন ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার নোয়াখালী জেলায় তাঁর জন্ম হয়। তাঁর আদিবাড়ী ছিল বিক্রমপুরে। পিতার নাম দুর্গাপ্রসন্ন চক্রবর্ত্তী এবং মায়ের নাম কমলেকামিনী দেবী। এক সম্ভ্রান্ত অভিজাত পরিবারে তাঁর জন্ম হয় ।
হিন্দু সম্প্রদায়ের একতার লক্ষ্যে তিনি সর্বপ্রথম হিন্দু সমাজের মধ্যে এক আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এরই লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁতিবাজারের ঝুলনবাড়ীতে প্রতিষ্ঠা করেন 'বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি।' প্রতিষ্ঠা থেকে আমৃত্যু তিনি সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। প্রথম সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন শৈলেশ ভৌমিক। সংগঠনের আদর্শ হিসেবে তিনি গ্রহণ করেন এক অনন্য ঐক্যবদ্ধতার আহ্বান -"এক ধর্ম, এক বর্ণ, এক সমাজ, এক সংস্কার।" এটা ওই সময়ের জন্যে ছিল এক ইউনিক যুগান্তকারী আইডিয়া। ঐক্যবদ্ধতার এ আহ্বানটি শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর উপস্থিতিতে ১৯৮৮ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিন্দু মহাসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের সকল দেশের প্রতিনিধি সদস্যদের দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়ে সাদরে গৃহীত হয়।
১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় বাংলাদেশী হিন্দুদের প্রথম সর্বজনীন পত্রিকা 'সমাজ দর্পণ।' পত্রিকাটি ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ থেকেই নিরবিছিন্নভাবে আজ অবধি প্রকাশিত হয়ে চলছে যথেষ্ট সুনামের সাথে। সংস্কারপন্থী ভাবধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে 'সুদর্শন পঞ্জিকা' নামে একটি পঞ্জিকা প্রকাশ করেন। পঞ্জিকাটি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়।
সংগঠন এবং পত্রিকা সম্পাদনার সাথে সাথে শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তী অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন এবং সম্পাদনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হল, দেব-দেবীর পরিচয় ও বাহন রহস্য, জ্ঞানমঞ্জরী (১-৪), পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের জন্মতত্ত্ব, মানুষের বর্ণভাগ কি ও কেন?, গীতার আলোকে নিজেকে দেখা ইত্যাদি।সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে হিন্দু বিবাহ, হিন্দুর সন্ধ্যাবন্দনা, শ্রীচণ্ডী, শ্রীগীতা অন্যতম।
বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রে একসময়ে বাংলাদেশে শুধুই পতঙ্গ প্রজাতির ছবি ব্যবহৃত হত।শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর তাঁর সংগঠন এবং সংগঠনের মাসিক মুখপত্র 'সমাজ দর্পণ' পত্রিকায় ব্যাপক প্রচারণার ফলেই, আজ বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রে চতুর্মুখ প্রজাপতি ব্রহ্মার ছবি ব্যবহৃত হচ্ছে। নবজাতকের আগমনের সংবাদ শুনলে ইদানীং আমরা “আয়ুষ্মান ভব” বলে নবজাতককে স্বাগত জানিয়ে আশীর্বাদ করি; বিষয়টি সমাজদর্পণ পত্রিকার মাধ্যমেই জনপ্রিয় হয়েছে। এককথায় বলতে গেলে, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর মাধ্যমেই বিষয়টি প্রথম জেনেছে বললে খুব একটা অত্যুক্তি হবেনা।কেউ মারা গেলে বর্তমানে আমরা শ্মশানে দাহকার্যে ব্যবহৃত একটি শ্লোকের শেষপাদ ব্যবহার করি। মৃত ব্যক্তি যেন দিব্যলোকে গমন করে মুক্ত হয়ে যায় এ কামনা করে আমরা বলি- "দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু।" আমরা হয়ত অনেকেই জানি না, বহুল প্রচলিত মৃতব্যক্তির সদগতি কামনা করে এ শ্লোকটি শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর সংগঠনের মাসিক মুখপত্র 'সমাজ দর্পণ' পত্রিকায় ব্যাপক প্রচারণায় মাধ্যমেই জনপ্রিয় হয়ে আজ আমাদের সবার মুখে মুখে। ভারতে হয়ত আগে থেকেই শ্লোকটি ব্যবহৃত হচ্ছে; কিন্তু বাংলাদেশে বহু পূর্বের থেকে 'সমাজ দর্পন' পত্রিকাতেই কেউ মারা গেলে শ্লোকটি ব্যবহৃত হত এবং আজও হচ্ছে।
হিন্দু সমাজ সংস্কারে তাঁর অনন্য অবদান বলে শেষ করা যাবে না। আজকে বাংলাদেশে যে মোটামুটি আমরা সবাই ১১ দিনে শ্রাদ্ধ পালন করি, এর সক্রিয় প্রচারণার পিছনে অন্যতম অবদান শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর। তিনি চেয়েছিলেন জাত-পাতের উদ্ধে উঠে সকল হিন্দু যেন এক হতে পারে; এ লক্ষ্যটিই ছিল তাঁর আমৃত্যু প্রয়াস। তিনি বলতেন, সমাজে জাতপাতের বিভাজন শাস্ত্রসম্মত নয় এবং তা সমাজ উন্নয়নের পরিপন্থী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানের সাথে সাথে বাংলা এবং সংস্কৃতে এ ট্রিপল মাস্টার্স করেছিলেন। অত্যন্ত মেধাবী এবং বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ছিল তাঁর। কর্মজীবনে অনেক বড় পদে চাকুরী করেও, তিনি ছিলেন নিরহংকারী সহজ সরল সাধারণ মানুষ। শিশুবৎ ছিল তাঁর সারল্য।
১২ মে, ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি তাঁর সকল সঞ্চয়ই বিলিয়ে দিয়েছিলেন এদেশের অভাগা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে।শিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তী আমাদের শুধু দিয়েই গিয়েছেন। কিন্তু মহান এ মানুষটিকে আমরা তাঁর যথাযথ যোগ্য সম্মান দিতে পারিনি। এমন তো হবার হবার কথা ছিল না। কোন সন্তান না থাকার কারণে সকলকেই তিনি সন্তানতূল্য দেখতেন। সকলকেই সর্বদা সর্বোচ্চ সাহায্য সহযোগিতা করতেন। যাদের সর্বোচ্চ সাহায্য সহযোগিতা করেছেন, তাঁর মৃত্যুর পরে কেউ তাঁর সম্পদ লোপাট করে দিয়েছেন; কাছের মানুষ সেজে কেউ তাঁর স্ত্রীর সকল গহণা নিয়ে গেছে; ইত্যাদি বহু কৃতঘ্নতা হয়েছে তাঁর মৃত্যুর পরে। শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তী অনেক বড় চাকুরি করার পরেও, নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্যে খুব একটা সঞ্চয় রেখে যাননি।ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, তাই মৃত্যুর পরে তাঁর অসুস্থ শয্যাশায়ী স্ত্রী রেখা চক্রবর্ত্তীকে চাঁদা তুলে সংসার চালাতে এবং ওষুধের খরচ জোগাড় করতে হয়েছিল।
হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক শ্রীহীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস সহ অন্যদের মুখে শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর স্ত্রীর করুণ শেষ জীবনের কাহিনীগুলো যখন শুনি তখন এই অভাগা হতচ্ছাড়া বাঙালি হিন্দু সমাজকে প্রচণ্ড অভিশাপ দিতে ইচ্ছে হয়। এই জাতির জন্যে যারা সত্যিকারভাবে কাজ করবে তাদের সবারই ব্যক্তি জীবন এবং পারিবারিক জীবনেই কি এমনি চরম বিপর্যয় নেমে আসবে?আর যারা শুধুমাত্র দালালি করবে, একমাত্র তারাই রাজনৈতিক ক্ষমতাবানদের উচ্ছিষ্ট অবশিষ্টাংশ খেয়ে থাকবে মহাসুখে। পক্ষান্তরে শিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীদের মত ক্ষণজন্মা পুরুষদের মৃত্যুর পরে তাদের স্ত্রীদের বাঁচতে হবে অপরের মুখাপেক্ষী, দয়ার পাত্র হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রতিক্ষায়। মানুষের জন্যে এত কাজ করার পরেও পাননি কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা পুরষ্কার। এরপরেও বলতে হয়, বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের সংস্কার আন্দোলনের ধ্রুবনক্ষত্র তিনি। তিন কুসংস্কার অমারাত্রির দুর্গতোরণ ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে, আমাদের নবজীবনের আশ্বাসে প্রবুদ্ধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার কয়েকটি চরণ মনে পড়ছে।
"নরলোকে বাজে জয়ডঙ্ক
এল মহাজন্মের লগ্ন
আজি অমারাত্রির দুর্গতোরণ যত
ধূলিতলে হয়ে গেল ভগ্ন।
উদয়শিখরে জাগে ‘মাভৈঃ মাভৈঃ’
নবজীবনের আশ্বাসে ।"
শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর 'জ্ঞানমঞ্জরী(সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর)' বইটির সকল তথ্যের সাথে হয়ত আমি শতভাগ সহমত নই। কিন্তু এরপরেও আমি বলবো দেশে প্রশ্নোত্তরে সনাতন ধর্মের শিক্ষার ইতিহাসে বইটি একটি মাইলফলক হয়ে আছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশে তাঁকে অনুসরণ করে অনেকেই
প্রশ্নোত্তরে সনাতন ধর্মের শিক্ষার বই লিখেছে। তাঁর সম্পাদিত মাসিক 'সমাজ দর্পণ' পত্রিকাটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পত্রিকাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধ্রুপদী পত্রিকায় রূপান্তরিত হয়েছে। দেশে রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্তের যে অনন্য স্থান; সেই একই অনন্য স্থান শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর। তিনিই বাংলাদেশে ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীতে সংস্কারমূলক ধর্মীয় সংগঠনের রূপকার।
শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর মৃত্যুর পরে তাঁর সংগঠনটি বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। তারুণ্যশক্তিকে তাঁর সংগঠনটি খুব একটা স্পর্শ করতে পারেনি। এটি সংগঠনটির একটি মস্তবড় সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ব্যর্থতা। 'বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি' যদি এ সাংগঠনিক ব্যর্থতাকে কাটিয়ে উঠতে পারে তবে সংগঠনটি আবারও আশি, নব্বই এবং শূণ্য এ তিনদশকের মত আবারও নতুনভাবে উজ্জীবিত হতে পারে। ব্যক্তি শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তীর এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন 'বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি' এর অনেক ব্যর্থতা থাকতে পারে বা আছে। কিন্তু এরপরেও দেশের সংস্কারমূলক ধর্মীয় সংগঠনের ধ্রুবনক্ষত্র বা প্রাণভ্রমরা হলেন শ্রীশিবশঙ্কর চক্রবর্ত্তী এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন। আগামীতে এ সংস্কারমূলক অনেক ধর্মীয় সংগঠনের জন্ম হবে; কিন্তু কেউ তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না। কারণ তিনি বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রেক্ষাপটে এ সংস্কারমূলক ধর্মীয় সংগঠনের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং রূপকার। যে তত্ত্বকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব উত্তর প্রজন্মের।
সহকারী অধ্যাপক,সংস্কৃত বিভাগ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সভাপতি, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ।
মন্তব্যগুলো দেখুনমন্তব্যগুলো লুকান🙁