-->

ধর্ম নির্ণয়ে বেদই একমাত্র প্রমাণ; পুরাণ এবং স্মৃতি সহায়ক মাত্র

বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বী কিছু ব্যক্তি প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদকে পাশ কাটিয়ে শুধু পৌরাণিক গ্রন্থ অথবা বিভিন্ন বাবাগুরুদের লেখা ছড়ার বই, গ...

তেলসুর গাছের ভুবন চিল।

তেলসুর গাছের ভুবন চিল।
তেলসুর গাছের ভুবন চিল
অনেক কষ্টে পেয়েছ আশ্রয়,
শহর নামক ইট-বালুর জঙ্গলে;
অস্তিত্বের প্রয়োজনে
এক অসম লড়াই মানবের সাথে।
মায়ের মত আঁকড়ে ধরে আছে,
জগন্নাথ হলের শতবর্ষী তেলসুর গাছটি
ভালবাসায় যেন কত মাখামাখি।
মানবের লোভে স্বার্থপরতায়,
অভাগা শতবর্ষী তেলসুরের
জীবনপ্রদীপের তেল নিঃশেষ প্রায়।
এরপর, কোথায় যাবে তোমরা?
নগরায়ণের নামে,
অজানা উল্টারথে চলছি আমরা,
গন্তব্য যার ধ্বংস রুদ্রের আসন।
প্রলয়ের রথে চলছি অবুঝ শিশু হয়ে
আমাদের সাথে যাবে?
তোমাদের সাথি করে নিতে চাই,
যেতে না চাইলেও
তোমাদের যেতে হবে, আমাদের সাথে।
ধ্বংসের মিছিলে,
ওগো, নিষ্পাপ ভুবন চিল।
মুক্ত নীলিমায় সবুজ অরণ্যে
জলের ভালবাসায় অনেক সিক্ত হয়েছ,
এবার যেতে হবে আমাদের গন্তব্যে
নিরবচ্ছিন্ন বৃক্ষ নিধন করে,
স্বোপার্জিত আত্মহননের পথে;
নগর নামক কংক্রিটের জঙ্গলে।
আমাদের সাথে
তোমাদেরও সাথি হতে হবে;
আমাদের যাত্রা প্রস্তুত,
শুধু তোমাদেরই অপেক্ষা।
( জগন্নাথ হলে বৃহৎ আকৃতির তেলসুর গাছ সহ অকারণে বিভিন্ন শতবর্ষী গাছ কাটার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদের পক্ষ থেকে তীব্রতর প্রতিবাদ হয়েছে। বারেবারে হল প্রশাসনের অহেতুক গাছ কাটার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমিও সক্রিয় ছিলাম। হলে বিভিন্ন ইতিহাসের সাক্ষী শতবর্ষী তেলসুর গাছগুলোতে অসংখ্য ভুবন চিল বাস করত। সারা ঢাকা শহরে থেকে বিতাড়িত হয়ে, অসহায় পাখিগুলো অবশেষে জগন্নাথ হলের শতবর্ষী গাছগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই গাছগুলো বিভিন্ন অজুহাতে হল প্রশাসন পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে কেটে ফেলা হচ্ছিল। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে জগন্নাথ হল উত্তর ভবনের পিছনে একটি গাছ কাটার পরে আমরা অনেকেই তীব্র প্রতিবাদ করি। সাময়িক কাছ কাটা বন্ধ হয়। সেই সময়ে এক একটি গাছ কাটা হচ্ছিল এবং সে গাছে বসবাস করা অসহায় ভুবন চিলগুলো বাস্তুহারা হয়ে আকাশে এদিক ওদিক গন্তব্যহীনভাবে উড়ে বেড়াচ্ছিল। প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলাম চোখের সামনে অসহায় পাখিগুলোকে বাস্তুহারা হতে দেখে। ঠিক সে সময়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কবিতাটি লিখি।)
সহকারী অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সভাপতি, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ।।
মন্তব্যগুলো দেখুনমন্তব্যগুলো লুকান🙁