-->

ধর্ম নির্ণয়ে বেদই একমাত্র প্রমাণ; পুরাণ এবং স্মৃতি সহায়ক মাত্র

বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বী কিছু ব্যক্তি প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদকে পাশ কাটিয়ে শুধু পৌরাণিক গ্রন্থ অথবা বিভিন্ন বাবাগুরুদের লেখা ছড়ার বই, গ...

দীক্ষা গ্রহণের জন্যে, সকল মাসই প্রশস্ত নয়।

বর্তমানে দীক্ষা অনেকটা ব্যবসায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে।অথচ দীক্ষা বিষয়টি অত্যন্ত পবিত্র একটি আধ্যাত্মিক ক্রিয়া। দীক্ষায় মানুষ নতুন জন্মরূপ দ্বিজ হয়। একজন সদগুরু শিষ্যকে বেদ-বেদান্তের মুক্তির পথ নির্দেশনা দেন। সেই জীবন্মুক্ত সদগুরু শিষ্যের কাছে কিছুই প্রত্যাশা করেন না। তিনি শুধু শিষ্যকে মুক্তির পথে অগ্রসর হতে করুণা করে ঈশ্বরের পথ দেখান। সেই পবিত্র পথ যিনি খুঁজে পেয়েছেন, তিনিই অন্যদের পথ দেখাতে পারেন। দীক্ষা নিয়ে ব্যবসা কখনোই করা উচিত নয়। গুরু ব্যবসার মত পাপকর্ম আর নেই। এই গুরুব্যবসায়ীরা নিজদের অজান্তে গুরু নামকেই কলঙ্কিত করছে। পবিত্র আধ্যাত্মিক বিষয়টিকে তারা যেহেতু ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করছে, তাই তারা ব্যবসার স্বার্থে বিভিন্ন কৌশলও গ্রহণ করে। ব্যবসার প্রসারে লোক টানতে তারা বিভিন্ন প্রকারের অশাস্ত্রীয় প্রচারণা করে। এতে হয়ত গুরুব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত লাভ হচ্ছে। কিন্তু সমষ্টিগতভাবে হিন্দু সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আজকে গুরুগিরি যেহেতু একটি লাভজনক ব্যবসাতে পরিণত হয়েছে; তাই অন্যান্য ব্যবসায় মত এ ব্যবসাতেও লাভ-লোকসানের রয়েছে। ব্যবসায় প্রোডাক্টের মার্কেটিং এর জন্যে যেমন লোক নিয়োগ করা হয়; এখানেও অনেকটা তেমনি হয়। গুরুরা শিষ্য বাড়াতে বিভিন্ন এজেন্ট নিয়োগ করে, সেই এজেন্টরা আবার গুরুদের আয়ের থেকে কিছু কমিশন পান। এই ভণ্ড গুরুরা বেদবেদান্তের প্রচার বাদ দিয়ে নিজেদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার নিয়েই অষ্টপ্রহর ব্যস্ত।সেজেগুজে রোডশোসহ ক্ষমতা প্রদর্শনের হেন পন্থা নেই, যা তারা লোককে আকর্ষিত করতে ব্যবহার করেন না।এ কারণে অনেকেই এই গুরু ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে রসিকতা করে বলেন: "সকল ব্যবসা বন্ধ হল,  খোলা রইলো গুরুর দ্বার,  গুরুর ব্যবসা চলে ভাল,  যদি থাকে ভাল ক্যানভাসার।" এই সকল গুরু ব্যবসায়ীদের সংগঠনে দেখা যায়, তারা যাকে পায় তাকেই ধরেধরে দীক্ষিত করে। কোন তিথি, নক্ষত্র, মাস, বার কিছুই তাদের যায় আসে না। কারণ আজকে তাদের এজেন্টরা যাকে দীক্ষা দিতে বুঝিয়ে শুনিয়ে গুরুর কাছে নিয়ে এসেছে;  দীক্ষা দিতে দেড়ি হলে তিনি যদি আগামীতে আর দীক্ষা না নেন এই তাদের শঙ্কা। অনেক সময়ে দেখা যায়, এই সকল গুরু ব্যবসায়ীরা ছোটছোট ছেলেমেয়েদের তাদের বাবামায়ের অজ্ঞাতসারে দীক্ষা দিয়ে দেন। কিছু বোঝার আগেই ধর্মের ভয় দেখিয়ে দীক্ষা দিয়ে তাদের হাতে দীক্ষাপত্র ধরিয়ে দিয়ে গুরুর নামে প্রতিনিয়ত প্রণামী পাঠাতে বলেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। জোরজবরদস্তি করার কারণে, অনেকেই চোখের লজ্জায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক রক্ষার্থে দীক্ষা নিতে বাধ্য হয়। দীক্ষিত ব্যক্তি অনেক সময়ে জানেও না যে, তার গুরুর কি নাম, কোথায় তিনি থাকেন?জীবনে আর পুনরায় গুরুর সাথে দেখা হবে কিনা, তাও তারা জানেন না। এভাবেই দীক্ষা নামক মহত্তম আধ্যাত্মিক বিষয়টি প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, শুধু গুরু নামক কিছু ব্যক্তি এবং তার সুবিধাভোগী অনুসারীদের কারণে। এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক গুরুপন্থীদের ধর্মব্যবসা সংক্রান্ত কিছু কথা আমার অত্যন্ত হতাশ হৃদয়ে ব্যক্ত করলেন। ঘটনাটি খাগড়াছড়ির  রামগড়ের ত্রিপুরা আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে। একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক গুরুবাদী প্রতিষ্ঠান থেকে সাদাপোশাকে কিছু ব্যক্তি তাদের গুরুর প্রতিনিধি হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে আদিবাসীদের মাঝে দীক্ষা দিতে আসে। সামান্য কিছু ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দীক্ষা নেয়। অধিকাংশই নেয় না। তখন সেই গুরুর সাদা পোশাকের কর্মীরা প্রত্যন্ত গ্রামে চলে যায়। আশেপাশের সহজ সরল সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন প্রকারের লোভ এবং ভয় দেখিয়ে তাদের থেকে দীক্ষা নিতে প্ররোচিত করে। কিছুকিছু ক্ষেত্রে বাধ্যও করে। তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ গরীব মানুষকে মগজ ধোলাই করতে তারা বলে, তাদের গুরু কোন মানুষ নয়; স্বয়ং ভগবান। এ বলেই তারা ক্ষান্ত হয় না, তারা বলে তাদের গুরুদেবই কলিযুগের কল্কি অবতার এবং কালী-কৃষ্ণ-শিবেরসহ সকলের তিনিই স্রষ্টা।কলিকালের তিনিই একমাত্র সদগুরু। তাই সকলেরই উচিত একমাত্র তার থেকেই দীক্ষা নিয়ে তার শরণে থাকা। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের সাথে যখন এই মিথ্যা গুলিস্তান মার্কেটিং সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ,  যাদের অধিকাংশই আদিবাসী বলা হয় ; তখন অনেকেই ধন্দে পড়ে যায়। সত্যি মিথ্যা নির্ণয় করতে পারে না। তাদের কেউ কেউ আগে থেকে চট্টগ্রামের শঙ্কর মঠ থেকে দীক্ষিত। তারা কি করবে বুঝতে পারে না। সে সময়েই মোক্ষম চাল চালে এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা। তখন তারা বলে, যদি কেউ অন্য কারো থেকে পূর্বে দীক্ষা নিয়ে থাকে, এতে সমস্যা নেই। তাদের গুরুদের প্রতিনিধিদের থেকে, অর্থাৎ তাদের থেকে আবারও নেয়া যাবে। কিন্তু তাদের থেকে দীক্ষা নেয়ার পরে আর নতুন করে দীক্ষা নেয়া যাবে না। তাদের গুরুদের তাদের পরিভাষায় কলিযুগের উদ্ধারকর্তা,  তাই মুক্তি পেতে হলে তাদের থেকে দীক্ষা নিতেই হবে। এত কাণ্ডের পরেও, অনেক আদিবাসী দীক্ষা নিতে নিমরাজি হয়। তখন চলে বিভিন্ন উপায়ে ছলে, বলে কৌশলে জোরজবরদস্তি। সহজ সরল আদিবাসীরা এত ঘোরপ্যাঁচ বোঝে না। প্রাথমিক অবস্থায় তাদের হাতে দীক্ষা নিতে ৫০,১০০, ৫০০ টাকা প্রদান করে। পরে তারা গুরু প্রণামীর নামে সুদেআসলে উশুল করে।দীক্ষা শেষে গুরুকে পোষণের প্রণামীর নামে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করে একটি দীর্ঘস্থায়ী ফাঁদে ফেলে দিয়ে এ গরীব মানুষদের থেকেই অসংখ্য টাকা  হাতিয়ে নেয়।আর এভাবেই সেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক গুরুবাদীরা আদিবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বেদ বেদান্তের রাজপথ থেকে বিচ্যুত করে। মন্দিরে দেবতার স্থলে গুরু, গুরুর অনুগত সেবক এবং বংশধরদের পূজা করতে অসহায় মানুষদের প্রতারণার মাধ্যমে বাধ্য করে। এতে সেই আদিবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সনাতন ধর্ম এবং ঈশ্বরের থেকে দূরে চলে গিয়ে কৃত্রিম অবৈদিক মতবাদ এবং নকল কল্কি অবতারদের  সাঙ্গপাঙ্গের জালে বদ্ধ হয়। পরবর্তী যখন সেই পূজা করা ব্যক্তির প্রতি ভক্তি চলে যায়, তখন দেখা যায় যে তাদের সনাতন ধর্মের প্রতিই বিশ্বাস চলে যায়। এরাই পরবর্তীতে খুব সহজেই খ্রিস্টান মিশনারীদের শিকারে পরিণত হয়ে ধর্মান্তরিত হয়। তাই এভাবে বৈষয়িক দৃষ্টিতে যত্রতত্র, যখন তখন অথবা জোরজবরদস্তি করে দীক্ষা দিতে নেই। এতে হিতে আরও বিপরীত হয়ে যায়।শাস্ত্রে কোন কোন মাসে দীক্ষিত হলে, কি কি শুভাশুভলক্ষণ হয়,  তা অত্যন্ত  সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে।'বৃহৎ তন্ত্রসারঃ' গ্রন্থে দীক্ষাগ্রহণ সংক্রান্ত মাসের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই শাস্ত্রীয় নির্দেশনাটি অনুসরণ করা কর্তব্য।  অথ দীক্ষাকালঃ।  মস্তারারমস্তু চৈত্রে স্যাৎসমস্তপুরুযার্থদঃ। বৈশাখে রত্বলাভঃ স্যাজ্যষ্ঠে চ মরণং ভবেৎ।  আষাঢ়ে বন্ধুনাশঃ স্যাৎ পূর্ণায়ুঃ শ্রাবণে ভবেৎ। প্রজানাশাে ভবেদ্ভাদ্রে আশ্বিনে রত্নসঞ্চয়ঃ।  কার্তিকে মন্ত্রসিদ্ধিঃ স্যান্মার্গশীর্ষে তথা ভবেৎ।  পৌষে তু শত্রুপীড়াস্যান্মাঘে মেধাবিবর্দ্ধনম্। ফাল্গুণে সর্বকামাঃ স্যুর্মলমাসং বিবর্জয়েৎ।  চৈত্রে তু গােপাল বিষয়ং গৌতম্যুক্ত্বাৎ।  মধুমাসে ভবেদ্দীক্ষা দুঃখায় মরণায় চ।  ইতি বচনান্নান্যত্র। তথা-  জ্যৈষ্ঠে মৃত্যুপ্রদা বিদ্যা আষাঢ়ে সুখসম্পদঃ। ইতি যােগিনীহৃদয়াদাষাঢ়ে শ্রীবিদ্যায়াং ন দোষঃ।।  অত্র চ মাসঃ সৌরে মাসি শুভা দীক্ষা ন চান্দ্রে ন চ তারকে। ইতি গৌতমীয়াৎ।।  বৈশম্পায়নসংহিতায়াম্।।  মন্ত্রস্যারম্ভণং মেষে ধনধান্যপ্রদং ভবেৎ। বৃষে মরণমাপ্নোতি মিথুনেহপত্যনাশনম্।  কর্কটে মন্ত্রসিদ্ধিঃ স্যাৎ সিংহে মেধাবিনাশনম্।  কন্যা লক্ষ্মীপ্রদা নিত্যং তুলায়াং সর্বসিদ্ধয়ঃ।  বৃশ্চিকে স্বর্ণলাভঃ স্যাদ্ধনুর্মানবিনাশনম্।  মকরঃ পূণ্যদঃ প্রােক্তঃ কুম্ভোধনসমৃদ্ধিদঃ।  মীনো দুঃখপ্রদো নিত্যমেবং মাসবিধিক্রমঃ।। "দীক্ষার কাল নির্ণয়: চৈত্র মাসে মন্ত্র গ্রহণ করলে সমস্ত পুরুষার্থ সিদ্ধি হয়, বৈশাখে রত্নলাভ, জ্যৈষ্ঠে মরণ, আষাঢ়ে বন্ধুনাশ, শ্রাবণে দীর্ঘায়ুঃ, ভাদ্রমাসে সন্তাননাশ, আশ্বিনে রত্নসঞ্চয়, কার্তিকে ও অগ্রহায়ণে মন্ত্রসিদ্ধি, পৌষ মাসে শত্রুবৃদ্ধি ও পীড়া, মাঘমাসে মেধাবৃদ্ধি ও ফাল্গুণ মাসে মন্ত্রগ্রহণ করলে সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। এভাবে মাসের গুণাগুণ বিবেচনা করে মন্ত্র গ্রহণ করা একান্ত বিধেয়, পরন্তু বিহিত মাসও যদি মলমাস হয়। তবে সেই মাস বর্জন করতে হবে। চৈত্র মাসে যে দীক্ষা উক্ত হল, তা শুধুই 'গােপালমন্ত্র' বিষয়ে। চৈত্র মাসে মন্ত্র গ্রহণ করলে দুঃখ ভােগ ও মরণ হয়ে থাকে। এইভাবে গ্রন্থান্তরে বিস্তারিত লিখিত আছে। অতএব চৈত্র মাসে কেবল গােপালমন্ত্র গ্রহণ করতে পারবে; অন্য দেবতার মন্ত্রে দীক্ষিত হতে পারবে না। আষাঢ় মাসে মন্ত্র গ্রহণ করলে বন্ধুনাশ হয়, এমন শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, তবে তা সকল দেবতার মন্ত্রের ক্ষেত্রে নয়। "আষাঢ়ে মন্ত্র গ্রহণ করলে সুখ ও সম্পদ লাভ হয়" যােগিনী হৃদয়ের এই বচন বলে আষাঢ় মাসে শ্রীবিদ্যার মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়া যায়। দীক্ষা বিষয়ে যে সকল মাসের দোষাদোষ লিখিত হইল, তা সকলই সৌর মাস। দীক্ষাতে সৌরমাসই প্রশস্ত, চান্দ্র মাসে গ্রহণ করবে না। বৈশম্পায়ন সংহিতায়ও এইরূপ মাসের নির্ণয় লিখিত আছে।" গুরুগিরির নামে গুরুব্যবসায়ীরা  শিষ্যদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং জৈবিক প্রয়োজনে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছেন। অথচ আমাদের শাস্ত্রে যখন তখন দীক্ষা দেয়াকে সমর্থন করা হয়নি। প্রত্যেকেরই দীক্ষার তিথি, নক্ষত্র, মাস, বার আলাদা। বাবার জন্যে যে দীক্ষা তিথি প্রশস্ত, সন্তানের জন্যে সেই তথিটি প্রশস্ত নাও হতে পারে। 'বৃহৎ তন্ত্রসারঃ' অনুসারে দেখা যায়, চৈত্রমাসে মন্ত্র গ্রহণ করলে যেমন কল্যাণ লাভ হয়, পুরুষার্থ সিদ্ধি হয়; বৈশাখ মাসে দীক্ষিত হলে ধনরত্ন লাভ হয়; শ্রাবণ মাসে দীক্ষিত হলে দীর্ঘায়ু লাভ হয়; আশ্বিন মাসে দীক্ষিত হলে রত্নসঞ্চয় হয়; কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে দীক্ষিত হলে মন্ত্রে সিদ্ধি লাভ করা যায়; মাঘমাসে দীক্ষিত হলে মেধাবৃদ্ধি হয় এবং ফাল্গুণ মাসে মন্ত্রগ্রহণ করলে সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। তেমনি বিপরীতে কয়েকটি মাসে মন্ত্রগ্রহণ ব্যক্তির জন্যে কল্যাণকর নাও হতে পারে। জ্যৈষ্ঠ মাসে মৃত্যু, আষাঢ় মাসে বন্ধুনাশ,ভাদ্রমাসে সন্তাননাশ এবং পৌষ মাসে শত্রুবৃদ্ধি ও দেহে পীড়া হতে পারে। মানুষ মন্ত্রসিদ্ধ হয়ে মুক্তিলাভের আকাঙ্ক্ষাতেই গুরুর কাছে দীক্ষিত হয়। সেই মুক্তিলাভের দৃষ্টিতে দেখলে কার্তিক-অগ্রহায়ণ দীক্ষা নেওয়ার জন্যে অত্যন্ত প্রশস্ত দুটি মাস।অথচ বর্তমানে অহরহ দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী, সন্তানসন্ততি সহ সম্পূর্ণ পরিবার বছরের যে কোন সময়েই দীক্ষা নিচ্ছে। বিষয়টি জনপ্রিয় হলেও, শাস্ত্রের বিধানে যৌক্তিক নয়। কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী  সহকারী অধ্যাপক,  সংস্কৃত বিভাগ,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


বর্তমানে দীক্ষা অনেকটা ব্যবসায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে।অথচ দীক্ষা বিষয়টি অত্যন্ত পবিত্র একটি আধ্যাত্মিক ক্রিয়া। দীক্ষায় মানুষ নতুন জন্মরূপ দ্বিজ হয়। একজন সদগুরু শিষ্যকে বেদ-বেদান্তের মুক্তির পথ নির্দেশনা দেন। সেই জীবন্মুক্ত সদগুরু শিষ্যের কাছে কিছুই প্রত্যাশা করেন না। তিনি শুধু শিষ্যকে মুক্তির পথে অগ্রসর হতে করুণা করে ঈশ্বরের পথ দেখান। সেই পবিত্র পথ যিনি খুঁজে পেয়েছেন, তিনিই অন্যদের পথ দেখাতে পারেন। দীক্ষা নিয়ে ব্যবসা কখনোই করা উচিত নয়। গুরু ব্যবসার মত পাপকর্ম আর নেই। এই গুরুব্যবসায়ীরা নিজদের অজান্তে গুরু নামকেই কলঙ্কিত করছে। পবিত্র আধ্যাত্মিক বিষয়টিকে তারা যেহেতু ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করছে, তাই তারা ব্যবসার স্বার্থে বিভিন্ন কৌশলও গ্রহণ করে। ব্যবসার প্রসারে লোক টানতে তারা বিভিন্ন প্রকারের অশাস্ত্রীয় প্রচারণা করে। এতে হয়ত গুরুব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত লাভ হচ্ছে। কিন্তু সমষ্টিগতভাবে হিন্দু সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আজকে গুরুগিরি যেহেতু একটি লাভজনক ব্যবসাতে পরিণত হয়েছে; তাই অন্যান্য ব্যবসায় মত এ ব্যবসাতেও লাভ-লোকসানের রয়েছে। ব্যবসায় প্রোডাক্টের মার্কেটিং এর জন্যে যেমন লোক নিয়োগ করা হয়; এখানেও অনেকটা তেমনি হয়। গুরুরা শিষ্য বাড়াতে বিভিন্ন এজেন্ট নিয়োগ করে, সেই এজেন্টরা আবার গুরুদের আয়ের থেকে কিছু কমিশন পান। এই ভণ্ড গুরুরা বেদবেদান্তের প্রচার বাদ দিয়ে নিজেদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার নিয়েই অষ্টপ্রহর ব্যস্ত।সেজেগুজে রোডশোসহ ক্ষমতা প্রদর্শনের হেন পন্থা নেই, যা তারা লোককে আকর্ষিত করতে ব্যবহার করেন না।এ কারণে অনেকেই এই গুরু ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে রসিকতা করে বলেন:
"সকল ব্যবসা বন্ধ হল,
খোলা রইলো গুরুর দ্বার,
গুরুর ব্যবসা চলে ভাল,
যদি থাকে ভাল ক্যানভাসার।"
এই সকল গুরু ব্যবসায়ীদের সংগঠনে দেখা যায়, তারা যাকে পায় তাকেই ধরেধরে দীক্ষিত করে। কোন তিথি, নক্ষত্র, মাস, বার কিছুই তাদের যায় আসে না। কারণ আজকে তাদের এজেন্টরা যাকে দীক্ষা দিতে বুঝিয়ে শুনিয়ে গুরুর কাছে নিয়ে এসেছে; দীক্ষা দিতে দেড়ি হলে তিনি যদি আগামীতে আর দীক্ষা না নেন এই তাদের শঙ্কা। অনেক সময়ে দেখা যায়, এই সকল গুরু ব্যবসায়ীরা ছোটছোট ছেলেমেয়েদের তাদের বাবামায়ের অজ্ঞাতসারে দীক্ষা দিয়ে দেন। কিছু বোঝার আগেই ধর্মের ভয় দেখিয়ে দীক্ষা দিয়ে তাদের হাতে দীক্ষাপত্র ধরিয়ে দিয়ে গুরুর নামে প্রতিনিয়ত প্রণামী পাঠাতে বলেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। জোরজবরদস্তি করার কারণে, অনেকেই চোখের লজ্জায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক রক্ষার্থে দীক্ষা নিতে বাধ্য হয়। দীক্ষিত ব্যক্তি অনেক সময়ে জানেও না যে, তার গুরুর কি নাম, কোথায় তিনি থাকেন?জীবনে আর পুনরায় গুরুর সাথে দেখা হবে কিনা, তাও তারা জানেন না। এভাবেই দীক্ষা নামক মহত্তম আধ্যাত্মিক বিষয়টি প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, শুধু গুরু নামক কিছু ব্যক্তি এবং তার সুবিধাভোগী অনুসারীদের কারণে। এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক গুরুপন্থীদের ধর্মব্যবসা সংক্রান্ত কিছু কথা আমার অত্যন্ত হতাশ হৃদয়ে ব্যক্ত করলেন। ঘটনাটি খাগড়াছড়ির রামগড়ের ত্রিপুরা আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে। একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক গুরুবাদী প্রতিষ্ঠান থেকে সাদাপোশাকে কিছু ব্যক্তি তাদের গুরুর প্রতিনিধি হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে আদিবাসীদের মাঝে দীক্ষা দিতে আসে। সামান্য কিছু ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দীক্ষা নেয়। অধিকাংশই নেয় না। তখন সেই গুরুর সাদা পোশাকের কর্মীরা প্রত্যন্ত গ্রামে চলে যায়। আশেপাশের সহজ সরল সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন প্রকারের লোভ এবং ভয় দেখিয়ে তাদের থেকে দীক্ষা নিতে প্ররোচিত করে। কিছুকিছু ক্ষেত্রে বাধ্যও করে। তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ গরীব মানুষকে মগজ ধোলাই করতে তারা বলে, তাদের গুরু কোন মানুষ নয়; স্বয়ং ভগবান। এ বলেই তারা ক্ষান্ত হয় না, তারা বলে তাদের গুরুদেবই কলিযুগের কল্কি অবতার এবং কালী-কৃষ্ণ-শিবেরসহ সকলের তিনিই স্রষ্টা।কলিকালের তিনিই একমাত্র সদগুরু। তাই সকলেরই উচিত একমাত্র তার থেকেই দীক্ষা নিয়ে তার শরণে থাকা। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের সাথে যখন এই মিথ্যা গুলিস্তান মার্কেটিং সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ, যাদের অধিকাংশই আদিবাসী বলা হয় ; তখন অনেকেই ধন্দে পড়ে যায়। সত্যি মিথ্যা নির্ণয় করতে পারে না। তাদের কেউ কেউ আগে থেকে চট্টগ্রামের শঙ্কর মঠ থেকে দীক্ষিত। তারা কি করবে বুঝতে পারে না। সে সময়েই মোক্ষম চাল চালে এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা। তখন তারা বলে, যদি কেউ অন্য কারো থেকে পূর্বে দীক্ষা নিয়ে থাকে, এতে সমস্যা নেই। তাদের গুরুদের প্রতিনিধিদের থেকে, অর্থাৎ তাদের থেকে আবারও নেয়া যাবে। কিন্তু তাদের থেকে দীক্ষা নেয়ার পরে আর নতুন করে দীক্ষা নেয়া যাবে না। তাদের গুরুদের তাদের পরিভাষায় কলিযুগের উদ্ধারকর্তা, তাই মুক্তি পেতে হলে তাদের থেকে দীক্ষা নিতেই হবে। এত কাণ্ডের পরেও, অনেক আদিবাসী দীক্ষা নিতে নিমরাজি হয়। তখন চলে বিভিন্ন উপায়ে ছলে, বলে কৌশলে জোরজবরদস্তি। সহজ সরল আদিবাসীরা এত ঘোরপ্যাঁচ বোঝে না। প্রাথমিক অবস্থায় তাদের হাতে দীক্ষা নিতে ৫০,১০০, ৫০০ টাকা প্রদান করে। পরে তারা গুরু প্রণামীর নামে সুদেআসলে উশুল করে।দীক্ষা শেষে গুরুকে পোষণের প্রণামীর নামে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করে একটি দীর্ঘস্থায়ী ফাঁদে ফেলে দিয়ে এ গরীব মানুষদের থেকেই অসংখ্য টাকা হাতিয়ে নেয়।আর এভাবেই সেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক গুরুবাদীরা আদিবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বেদ বেদান্তের রাজপথ থেকে বিচ্যুত করে। মন্দিরে দেবতার স্থলে গুরু, গুরুর অনুগত সেবক এবং বংশধরদের পূজা করতে অসহায় মানুষদের প্রতারণার মাধ্যমে বাধ্য করে। এতে সেই আদিবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সনাতন ধর্ম এবং ঈশ্বরের থেকে দূরে চলে গিয়ে কৃত্রিম অবৈদিক মতবাদ এবং নকল কল্কি অবতারদের সাঙ্গপাঙ্গের জালে বদ্ধ হয়। পরবর্তী যখন সেই পূজা করা ব্যক্তির প্রতি ভক্তি চলে যায়, তখন দেখা যায় যে তাদের সনাতন ধর্মের প্রতিই বিশ্বাস চলে যায়। এরাই পরবর্তীতে খুব সহজেই খ্রিস্টান মিশনারীদের শিকারে পরিণত হয়ে ধর্মান্তরিত হয়। তাই এভাবে বৈষয়িক দৃষ্টিতে যত্রতত্র, যখন তখন অথবা জোরজবরদস্তি করে দীক্ষা দিতে নেই। এতে হিতে আরও বিপরীত হয়ে যায়।শাস্ত্রে কোন কোন মাসে দীক্ষিত হলে, কি কি শুভাশুভলক্ষণ হয়, তা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে।'বৃহৎ তন্ত্রসারঃ' গ্রন্থে দীক্ষাগ্রহণ সংক্রান্ত মাসের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই শাস্ত্রীয় নির্দেশনাটি অনুসরণ করা কর্তব্য।
অথ দীক্ষাকালঃ।
মস্তারারমস্তু চৈত্রে স্যাৎসমস্তপুরুযার্থদঃ।
বৈশাখে রত্বলাভঃ স্যাজ্যষ্ঠে চ মরণং ভবেৎ।
আষাঢ়ে বন্ধুনাশঃ স্যাৎ পূর্ণায়ুঃ শ্রাবণে ভবেৎ।
প্রজানাশাে ভবেদ্ভাদ্রে আশ্বিনে রত্নসঞ্চয়ঃ।
কার্তিকে মন্ত্রসিদ্ধিঃ স্যান্মার্গশীর্ষে তথা ভবেৎ।
পৌষে তু শত্রুপীড়াস্যান্মাঘে মেধাবিবর্দ্ধনম্।
ফাল্গুণে সর্বকামাঃ স্যুর্মলমাসং বিবর্জয়েৎ।
চৈত্রে তু গােপাল বিষয়ং গৌতম্যুক্ত্বাৎ।
মধুমাসে ভবেদ্দীক্ষা দুঃখায় মরণায় চ।
ইতি বচনান্নান্যত্র। তথা-
জ্যৈষ্ঠে মৃত্যুপ্রদা বিদ্যা আষাঢ়ে সুখসম্পদঃ।
ইতি যােগিনীহৃদয়াদাষাঢ়ে শ্রীবিদ্যায়াং ন দোষঃ।।
অত্র চ মাসঃ সৌরে মাসি শুভা দীক্ষা ন চান্দ্রে ন চ তারকে।
ইতি গৌতমীয়াৎ।।
বৈশম্পায়নসংহিতায়াম্।।
মন্ত্রস্যারম্ভণং মেষে ধনধান্যপ্রদং ভবেৎ।
বৃষে মরণমাপ্নোতি মিথুনেহপত্যনাশনম্।
কর্কটে মন্ত্রসিদ্ধিঃ স্যাৎ সিংহে মেধাবিনাশনম্।
কন্যা লক্ষ্মীপ্রদা নিত্যং তুলায়াং সর্বসিদ্ধয়ঃ।
বৃশ্চিকে স্বর্ণলাভঃ স্যাদ্ধনুর্মানবিনাশনম্।
মকরঃ পূণ্যদঃ প্রােক্তঃ কুম্ভোধনসমৃদ্ধিদঃ।
মীনো দুঃখপ্রদো নিত্যমেবং মাসবিধিক্রমঃ।।
"দীক্ষার কাল নির্ণয়:
চৈত্র মাসে মন্ত্র গ্রহণ করলে সমস্ত পুরুষার্থ সিদ্ধি হয়, বৈশাখে রত্নলাভ, জ্যৈষ্ঠে মরণ, আষাঢ়ে বন্ধুনাশ, শ্রাবণে দীর্ঘায়ুঃ, ভাদ্রমাসে সন্তাননাশ, আশ্বিনে রত্নসঞ্চয়, কার্তিকে ও অগ্রহায়ণে মন্ত্রসিদ্ধি, পৌষ মাসে শত্রুবৃদ্ধি ও পীড়া, মাঘমাসে মেধাবৃদ্ধি ও ফাল্গুণ মাসে মন্ত্রগ্রহণ করলে সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। এভাবে মাসের গুণাগুণ বিবেচনা করে মন্ত্র গ্রহণ করা একান্ত বিধেয়, পরন্তু বিহিত মাসও যদি মলমাস হয়। তবে সেই মাস বর্জন করতে হবে। চৈত্র মাসে যে দীক্ষা উক্ত হল, তা শুধুই 'গােপালমন্ত্র' বিষয়ে। চৈত্র মাসে মন্ত্র গ্রহণ করলে দুঃখ ভােগ ও মরণ হয়ে থাকে। এইভাবে গ্রন্থান্তরে বিস্তারিত লিখিত আছে। অতএব চৈত্র মাসে কেবল গােপালমন্ত্র গ্রহণ করতে পারবে; অন্য দেবতার মন্ত্রে দীক্ষিত হতে পারবে না। আষাঢ় মাসে মন্ত্র গ্রহণ করলে বন্ধুনাশ হয়, এমন শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, তবে তা সকল দেবতার মন্ত্রের ক্ষেত্রে নয়। "আষাঢ়ে মন্ত্র গ্রহণ করলে সুখ ও সম্পদ লাভ হয়" যােগিনী হৃদয়ের এই বচন বলে আষাঢ় মাসে শ্রীবিদ্যার মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়া যায়। দীক্ষা বিষয়ে যে সকল মাসের দোষাদোষ লিখিত হইল, তা সকলই সৌর মাস। দীক্ষাতে সৌরমাসই প্রশস্ত, চান্দ্র মাসে গ্রহণ করবে না। বৈশম্পায়ন সংহিতায়ও এইরূপ মাসের নির্ণয় লিখিত আছে।"
গুরুগিরির নামে গুরুব্যবসায়ীরা শিষ্যদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং জৈবিক প্রয়োজনে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছেন। অথচ আমাদের শাস্ত্রে যখন তখন দীক্ষা দেয়াকে সমর্থন করা হয়নি। প্রত্যেকেরই দীক্ষার তিথি, নক্ষত্র, মাস, বার আলাদা। বাবার জন্যে যে দীক্ষা তিথি প্রশস্ত, সন্তানের জন্যে সেই তথিটি প্রশস্ত নাও হতে পারে। 'বৃহৎ তন্ত্রসারঃ' অনুসারে দেখা যায়, চৈত্রমাসে মন্ত্র গ্রহণ করলে যেমন কল্যাণ লাভ হয়, পুরুষার্থ সিদ্ধি হয়; বৈশাখ মাসে দীক্ষিত হলে ধনরত্ন লাভ হয়; শ্রাবণ মাসে দীক্ষিত হলে দীর্ঘায়ু লাভ হয়; আশ্বিন মাসে দীক্ষিত হলে রত্নসঞ্চয় হয়; কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে দীক্ষিত হলে মন্ত্রে সিদ্ধি লাভ করা যায়; মাঘমাসে দীক্ষিত হলে মেধাবৃদ্ধি হয় এবং ফাল্গুণ মাসে মন্ত্রগ্রহণ করলে সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। তেমনি বিপরীতে কয়েকটি মাসে মন্ত্রগ্রহণ ব্যক্তির জন্যে কল্যাণকর নাও হতে পারে। জ্যৈষ্ঠ মাসে মৃত্যু, আষাঢ় মাসে বন্ধুনাশ,ভাদ্রমাসে সন্তাননাশ এবং পৌষ মাসে শত্রুবৃদ্ধি ও দেহে পীড়া হতে পারে। মানুষ মন্ত্রসিদ্ধ হয়ে মুক্তিলাভের আকাঙ্ক্ষাতেই গুরুর কাছে দীক্ষিত হয়। সেই মুক্তিলাভের দৃষ্টিতে দেখলে কার্তিক-অগ্রহায়ণ দীক্ষা নেওয়ার জন্যে অত্যন্ত প্রশস্ত দুটি মাস।অথচ বর্তমানে অহরহ দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী, সন্তানসন্ততি সহ সম্পূর্ণ পরিবার বছরের যে কোন সময়েই দীক্ষা নিচ্ছে। বিষয়টি জনপ্রিয় হলেও, শাস্ত্রের বিধানে যৌক্তিক নয়।
সহকারী অধ্যাপক,সংস্কৃত বিভাগ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সভাপতি, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ।
মন্তব্যগুলো দেখুনমন্তব্যগুলো লুকান🙁